বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০১০

ঘটিভাঙ্গা-সোনাদিয়া সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ

ঘটিভাঙ্গা-সোনাদিয়া সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ
রুহুল বয়ান

মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা-সোনাদিয়া সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তদারকি কর্মকর্তার (এসও) অনুপস্থিতিতে নির্মাণকাজ করার অভিযোগে ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোর বিজ্ঞপ্তি (নোটিশ) দিয়েছেন উপজেলা প্রকৌশলী। এদিকে, এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে নানা অনিয়মের সত্যতা পেয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।
জানা গেছে, কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা-সোনাদিয়া সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ গত ডিসেম্বরে শুরু হয়। ঠিকাদার নির্মাণকাজের শুরুতেই কাজের ধীরগতির পাশাপাশি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে আসছেন। এলাকার লোকজনের বাধা উপেক্ষা করে ঠিকাদার কাজ চালিয়ে নেন। পরে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গা-সোনাদিয়ায় ২০০৬ সালে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়। এরপর এগুলোর সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গত বছরের জুলাইতে প্রায় ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন। সড়কের নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স আবুল কাসেম কনস্ট্রাকশন। আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা। তবে নির্মাণকাজ তদারকি কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী নুর আহমদ জানান, ‘শুরুতেই ধীরগতির কারণে যথাসময়ে কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।’
কুতুবজোম ইউনিয়নের ঘটিভাঙ্গার বাসিন্দা হাবিব উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ‘সংযোগ সড়কে মাটির পরিবর্তে বালু দেওয়া হয়েছে। বালুর ওপর বসানো হয়েছে নিম্নমানের ইট।’
এলাকাবাসীর অভিযোগের পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কাউসার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। তিনি নির্মাণকাজে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর কাজ বন্ধ করে দেন।
উপসহকারী প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘ঠিকাদারকে নিম্নমানের ইট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংযোগ সড়কে মাটি ফেলার জন্যও বলা হয়েছে। কারণ বালু দিয়ে সড়ক তৈরি করা যাবে না।’
তবে ঠিকাদার আবুল কাসেম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সড়কের কাজ করা হচ্ছে। এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষীমহল হয়রানি করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’
উপজেলা প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ জানান, ‘নির্মাণকাজের তদারকি কর্মকর্তা ছাড়াই ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামতো কাজ চালিয়ে নেওয়ার অভিযোগে কারণ দর্শানোর বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।’
সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কাউসার হোসেন বলেন, ‘ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন