বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০১০

চকরিয়ায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দেখা মেলে না

চকরিয়ায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দেখা মেলে না

চকরিয়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চৌধুরী মোর্শেদ আলম প্রায় সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি অনুপস্থিত থাকলেও অন্য কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যান না। ফলে নানা ভোগান্তিতে পড়ছেন জন্ম নিয়ন্ত্রণের সেবা নিতে আসা রোগীরা।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চৌধুরী মোর্শেদ অতিরিক্ত আরও দুজন স্বাস্থ্যকর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। এই বিভাগে ৬৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
দুইজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘স্যার বেশির ভাগ সময় অফিস করেন না।’ এতে তাঁরা জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করতে আসা রোগীদের সেবা দিতে পারেন না। এ ছাড়া দাপ্তরিক কাজেও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
গত রোববার সকালে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেখা গেছে, তাঁর কার্যালয়টি তালাবদ্ধ। বারান্দায় ২৫-২৬জন নারীর কেউ দাঁড়িয়ে আর কেউ বসে আছেন।
কার্যালয় সহকারী জাকিয়া বেগম জানান, ‘স্যার বিভাগীয় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ঢাকায় গেছেন।’ কেউ তাঁর এই দায়িত্বে নেই বলে জানান তিনি।
প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম বদরখালী ইউনিয়নের মগনামাপাড়া থেকে এসেছেন গৃহবধূ হোসনে আরা বেগম (৪২)। তিনি বন্ধ্যাকরণ করার জন্য আসেন। এর আগে তিনি আরও একবার এসে কর্মকর্তা না থাকায় ফিরে যান। তাঁর মতো প্রায় সময় জন্ম নিয়ন্ত্রণের সেবা নিতে আসা রোগীরা কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে ফিরে যান বলে জানা গেছে।
পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চৌধুরী মোর্শেদ আলম প্রথম আলোকে জানান, ‘আমি বিভাগীয় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ছুটি নিয়ে ঢাকায় এসেছি।’ কাউকে দায়িত্ব দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তা ডিডি (উপপরিচালক) স্যার দেখবেন।’ তবে তিনি প্রায় সময় দাপ্তরিক কাজ ও প্রশিক্ষণে কর্মস্থলের বাইরে থাকেন বলে স্বীকার করেন।
এই কর্মকর্তার কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার আরও নজির দেখা গেছে উপজেলা প্রশাসনের মাসিক সমন্বয় সভার উপস্থিতি খাতা থেকে। ২০০৮ থেকে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি মাত্র নয়টি সভায় উপস্থিত ছিলেন। নিয়মানুযায়ী এ সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত থাকতে না পারলে ওই দপ্তরের কোনো একজন প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকতে হয়।
এ প্রসঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কক্সবাজারের উপপরিচালক দীপক তালুকদার চৌধুরী মোর্শেদ ছুটিতে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘তাঁর স্থলে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।’ এই কর্মকর্তা প্রায় সময় অনুপস্থিত থাকার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী কোনো কর্মকর্তা কর্মস্থলের বাইরে থাকলে অধীনস্থ অন্য কাউকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হয়। এর কোনো বিকল্প নেই।’
একই মন্তব্য করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিজ কর্মস্থল কিংবা উপজেলার বাইরে যেকোনো কাজে গেলেই দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হয়।

তথ্য সূত্র: প্রথম আলো

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন