বাজারে ন্যায্যমূল্য নেই, ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে সবজি, কৃষকের মাথায় হাত
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সাতকানিয়া
সাতকানিয়া ও চন্দনাইশে উৎপাদিত নানা জাতের মৌসুমী সবজি এখন কৃষকের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। বাজারে ন্যায্যমূল্য না থাকায় কৃষকরা ক্ষেত থেকে সবজি উঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে মাঠে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কৃষকদের লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে উৎপাদিত সবজি। অনেকেই পাইকারি বাজারে সবজি এনে বিক্রি করতে না পেরে ফেলে দিয়ে চলে যাচ্ছে। আর দক্ষিণ চট্টগ্রামের কোথাও হিমাগার না থাকায় সবজি সংরক্ষণেরও কোন ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। চাহিদা না থাকায় সবজি চাষীরা এখন দিশেহারা। অনেকেই এখনো সবজি বিক্রি করে উৎপাদন খরচও উঠাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন। সাতকানিয়া ও চন্দনাইশের পাইকারী সবজি বাজারগুলো সরেজমিন পরিদর্শন ও চাষীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে সাতকানিয়ার শিশুতলা ও চন্দনাইশের দোহাজারীসহ বেশ কয়েকটি সবজি বাজার ঘুরে দেখা গেছে বেগুন, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, শিম ও মুলাসহ নানা জাতের প্রচুর পরিমাণ মৌসুমী সবজি চাষীরা বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছে। কিন্তু বেশির ভাগই অবিক্রিত রয়ে গেছে। সাতকানিয়ার কালিয়াইশের সবজি চাষী আবদুল মালেক, ছবুর, নুরুল ইসলাম, দোহাজারীর নেয়ামত আলী, আবিদুর রহমানসহ অনেকে জানান, বাজারে বর্তমানে সবজির যে দাম তা দিয়ে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচের অর্ধেকও উঠবে না। তারা জানান, জমির খাজনা, সবজির বীজ, চারা ক্রয়, সার, কীটনাশক প্রয়োগ, মুজরি খরচ, বাজারজাত করতে পরিবহন খরচসহ প্রত্যেকটি ফুল কপি ও বাঁধাকপিতে প্রায় ৫/৬ টাকা করে খরচ পড়ছে। আর বাজারে ২/৩ কেজি ওজনের একটি কপি বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে এক টাকা দরে। আবার অনেক সময় বিক্রিও হচ্ছে না। এছাড়াও শিম, বেগুন, মুলা ও টমেটো বিক্রি করেও ন্যায্যমুল্য পাচ্ছে না বলে কৃষকরা। গতকাল শুক্রবার দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পাইকারি সবজি বাজার দোহাজারী রেলওয়ে স্টেশনে বেগুন ও টমেটো বিক্রি হয়েছে প্রতিকেজি ৫০ পয়সা দরে। সবজি চাষী আবুল কালাম ও জেবর মুল্লক জানান, এখন আর ক্ষেত থেকে সবজি উঠাবে না। তাদের মতো আরো অনেকেই ক্ষেত থেকে সবজি উঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। অপরদিকে, সাতকানিয়ার ছদাহা, বাজালিয়া, পুরানগড়, চরতি, খাগরিয়া, নলুয়া এবং চন্দনাইশের দোহাজারী, ধোপাছড়ি, চাগাচর, বৈলতলী, বরমা, বরকলসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার একর ক্ষেতে এখনো নানা জাতের সবজি রয়ে গেছে। এসব এলাকার কৃষকরা বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ক্ষেত থেকে সবজি উঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, বেগুন, টমেটোসহ বিভিন্ন জাতের সবজি মাঠে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চান মিয়া, লিয়াকত ও আবুল বশরসহ কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, বাজারে এখন প্রচুর পরিমাণ সবজি থাকায় দাম খুব কম। ফলে তারা সবজি নেয়া আপাতত বন্ধ করে দিয়েছেন। কৃষকরা জানান, এখানে কোন হিমাগার না থাকায় প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকার সবজি নষ্ট হয়ে যায়। একটি হিমাগার স্থাপন করা গেলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণ করতে পারতেন।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন