
ফিশারীঘাট রিং রোড ও কর্ণফুলী দখল করে সিটি কর্পোরেশনেরর মার্কেট নির্মাণ
আলীউর রাহমান
এবার সিডিএ নির্মিত ফিশারিঘাট রিং রোড (সংযোগ সড়ক) ও কর্ণফুলী নদী দখল করে দোকান নির্মাণ করছে সিটি কর্পোরেশন। তিনমাস আগে সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের কয়েকদিন পর মার্কেট নির্মাণ শুরু করা হয়। চলতি বছরের মাঝামাঝিতে কর্ণফুলীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া সত্ত্বেও সিটি কর্পোরেশনের এ উদ্যোগে বিস্ময় প্রকাশ করেছে সচেতন মহল। নদী দখল করে মার্কেট নির্মাণ করা হলে ক্যাপিটাল ড্রেজিং এর ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন এলাকাবাসী। নগরীর অন্যতম ব্যস্ত চাক্তাই এলাকার যানজট কমাতে ২০০৭ সালে পাথরঘাটা ফিশারিঘাট থেকে চাক্তাই ব্রিজ পর্যন্ত দুই কিলোমিটার দীর্ঘ রিং রোড তৈরীর সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ২০০৯ সালের নভেম্বরে সড়কটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ও সিডিএ চেয়ারম্যান। চাক্তাইয়ের যানজট এড়িয়ে যানবাহন বা সাধারণ পথচারীরা সহজে রিং রোড ব্যবহার করে পাথরঘাটা হয়ে কর্ণফুলী ব্রিজে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। উদ্বোধনের দুই মাস পর সড়কের দক্ষিণ পাশের ফুটপাত ও কর্ণফুলী নদী দখল করে মার্কেট নির্মাণ শুরু করে সিটি কর্পোরেশন। মার্কেটটি বন্দরের জায়গার উপর তৈরী করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বন্দর কর্তৃপক্ষেরও অনুমতি নেয়া হয়নি বলে বন্দর সূত্রে জানা যায়। বন্দরের প্রধান ভূসম্পদ কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন, ফুটপাত ও নদী দখল করে বন্দরের জায়গায় দোকান নির্মাণ করার অধিকার করপোরেশনের নেই। এ ব্যাপারে আগামী রোববার সিটি কর্পোরেশনকে নোটিস প্রদান করবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ক্যাপিট্যাল ড্রেজিংয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রাণের দাবি কর্ণফুলী নদীর ক্যাপিট্যাল ড্রেজিং। এখন সিটি কর্পোরেশন দোকান নির্মাণ করে তার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। দোকানগুলো নির্মিত হলে ক্যাপিটাল ড্রেজিং বাধাগ্রস্ত হবে বলে তিনি জানান।
গতকাল সরেজমিন রিং রোড এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, সিটি কর্পোরেশনের গাড়িতে করে দোকানের অভ্যন্তরে মাটি ভরাট করা হচ্ছে। মার্কেটের দেয়াল তৈরী করছে ২০-২৫জন মিস্ত্রী। রিং রোডের ফুটপাত ও কর্ণফুলী দখল করে ৬৪টি দোকান নির্মিত হচ্ছে। প্রতিটি দোকানের আয়তন ১২*১৫ ফুট। সামনে আরো দুই ফুটের বারান্দা রয়েছে আরসিসি পিলার দিয়ে তৈরী করা হচ্ছে দোকানগুলো মার্কেট নির্মাণের কাজ পরিচালনাকারী মিস্ত্রী আবুল কালাম জানান, হোসেন সাঈদ নামের এক ব্যক্তি থেকে তিনি কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন। নির্মাণ সামগ্রী সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রদান করা হচ্ছে। সাঈদ হোসেন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন দোকানগুলো বন্দর থেকে অনুমতি নিয়ে তিনি নির্মান করছেন। বন্দরের অনুমতি সম্পর্কিত কোন কাগজ তার কাছে রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি পরে যোগাযোগ করবেন বলে জানান।
স্থানীয়রা বলেন, রোডটি চালু করার পর সেখানে অবৈধ দোকান বা স্থাপনা চোখে পড়েনি। কর্পোরেশন দোকান নির্মাণ করা শুরু করার সাথে সাথে স্থানীয় অনেক ব্যক্তি ছোট ছোট টং ঘর করে দোকান খুলে দিয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ছোট রিং রোডটির দুইপাশও নগরীর অন্যান্য সড়কের মতো দখল হয়ে যাবে। সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হালিম জানান, কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে দোকানগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ হকারদের উক্ত দোকানগুলোতে পুনর্বাসন করা হবে। সিডিএ অনুমতি বা কোন প্রকার নক্সা ছাড়া কর্পোরেশনের অর্থ ব্যয়ে দোকান নির্মাণের ব্যাপারে তিনি কোন প্রকার মন্তব্য থেকে বিরত থাকেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন