বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০১০

লোহাগাড়ায় কম্পিউটার শিক্ষার দুরবস্থা

লোহাগাড়ায় কম্পিউটার শিক্ষার দুরবস্থা
পুষ্পেন চৌধুরী

লোহাগাড়ায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষাব্যবস্থা থমকে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষক ও কম্পিউটারের অভাব, অবকাঠামোগত সমস্যার পাশাপাশি সরকারের সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাব এ দুরবস্থার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন শিক্ষকেরা। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষা চালুর ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রত্যেক বিদ্যালয়ে এ বছর কম্পিউটার শিক্ষার বইও বিতরণ করা হয়। আর তখন থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। বিষয়টি ঐচ্ছিক না আবশ্যিক? আবশ্যিক হলে প্রথমে প্রয়োজন ল্যাব, কম্পিউটার শিক্ষক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন। কিন্তু এসব ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা নেই সংশ্লিষ্টদের।
জানা যায়, লোহাগাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২৭টি। এর মধ্যে পাঁচটিতে কম্পিউটার শিক্ষা চালু রয়েছে। বাকি বিদ্যালয়ে বেসরকারিভাবে কম্পিউটার থাকলেও কোনোটি অচল, কোনোটিতে বিদ্যুত্সংযোগের অভাব অথবা কম্পিউটার জানা লোকবলের অভাব রয়েছে। লোহাগাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু তালেব প্রথম আলোকে জানান, ইতিমধ্যে সরকারি প্রজ্ঞাপন হাতে না এলেও শিক্ষামন্ত্রী কম্পিউটার শিক্ষা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছেন। সেই অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোতে বই বিতরণ করা হয়েছে। চুনতি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়দত্ত বড়ুয়া বলেন, ‘সরকারের এ সিদ্ধান্ত যুগোপযোগী তা স্বীকার করি। কিন্তু সরকারের কোনো নির্দেশনা আমরা এখনো পাইনি।’
আধুনগর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক জানান, সরকার কম্পিউটার শিক্ষা চালু করলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। এজন্য প্রথমেই প্রয়োজন ল্যাব ও কম্পিউটার শিক্ষক।
শাহপীর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহেবুবা আনোয়ার ও ইসতিয়াক আহমদ কম্পিউটারের বই পেয়ে খুশি। তবে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকায় তাঁরা বিষয়টি বুঝতে পারছেন না। শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাইম ও আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, এ বিষয়ে ৩০ নম্বর ব্যবহারিক রয়েছে। শিক্ষক ও ল্যাব না থাকলে ব্যবহারিক ক্লাস কীভাবে হবে বুঝতে পারছি না। পদুয়া উচ্চবিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষক নয়ন মণি জানান, লোহাগাড়ায় মাত্র পাঁচটি বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষা চালু রয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও কম্পিউটার শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীরা অবশ্যই বিপাকে পড়বে।
শিক্ষকেরা আলাপকালে জানান, প্রশিক্ষিত কম্পিউটার শিক্ষক ও ল্যাব প্রতিষ্ঠা করলে তবে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবেই। তা না হলে কেবল সরকারের অর্থের অপচয় হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালা। বোর্ড থেকে সরবরাহ করা বইতে বিষয়টি এখনো ঐচ্ছিক হিসেবে রয়েছে। তাঁরা বলেন, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে অদক্ষতার কারণে সরকারি-বেসরকারি অনেক কম্পিউটার অচল পড়ে আছে। লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পরিমল সিংহ বলেন, ‘বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করছে। এ ব্যাপারে অচিরেই সরকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা পাঠাবে।’
চট্টগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে আরা বলেন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ বছর কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। তবে শিক্ষকের অভাব, কম্পিউটারসংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে প্রতিটি বিদ্যালয়ে কম্পিউটার শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন