বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ, ২০১০

সীতাকুণ্ডের ২৪ হাজার জেলে পরিবারে দুর্দিন

সীতাকুণ্ডের ২৪ হাজার জেলে পরিবারে দুর্দিন
লিটন কুমার চৌধুরী

ইলিশ প্রজনন মৌসুমে সরকার নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত উপকূলীয় নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করায় সীতাকুণ্ড এলাকার প্রায় ২৪ হাজার ক্ষুদ্র জেলে পরিবারে নেমে এসেছে দুর্দিন। এতে প্রায় ৩০ হাজার জেলে বেকার হয়ে পড়েছেন। এসব জেলের কেউ কেউ ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। আবার অনেকে অর্থাভাবে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে।
উপকূলীয় এলাকায় জেলে অধ্যুষিত গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে এসব গ্রামের জেলেরা নদীতে জাল ফেলছেন। কিন্তু আশানুরূপ মাছ পাচ্ছেন না। নিরুপায় এসব জেলে জানান, বিকল্প কাজ না থাকায় তাঁরা বাধ্য হয়ে নদীতে জাল ফেলেন। সরকার ছয় মাস মাছধরা নিষিদ্ধ করলেও বিপুলসংখ্যক জেলের এই সময়ে বিকল্প কোনো কাজের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্দশার সীমা থাকে না। এই ছয় মাসের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে জেলেরা সরকারি সহযোগিতাও পাচ্ছেন না।
১ মার্চ দুপুরে বড়কুমিরা জেলেপাড়ায় দেখা যায়, মাঝবয়সী জেলে গোপাল গালে হাত দিয়ে নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন। কথা বলে জানা গেল, মহাজনী দাদন ও বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে জাল ও নৌকা গড়েছেন। কিন্তু নদীতে মাছ না পাওয়ায় ঋণের কিস্তি দিতে পারছেন না। পরিবার-পরিজন নিয়ে দুবেলা খাবারও জুটছে না ঠিকমতো।
কুমিরা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার জেলে পরিবার বাস করে। কাজীপাড়ার জেলে বলরাম (৪৮) হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘পোলাপান লইয়া দুগ্গা ভাত খাওনেরও উপায় নাই। ক্যামনে যে বাঁচমু কইতে পারি না।’ এসময় দেখা গেল ছোট ছোট নৌকাগুলো একে একে কুমিরাঘাটে ভিড়ছে। ছোট ছোট ঝাঁপির তলায় অল্প মাছ নিয়ে জেলেরা নিরস মুখে কিনারে অপেক্ষমাণ পাইকারদের দিকে এগিয়ে আসছেন।
জেলে সুবল জলদাস পেয়েছেন ছোট ছোট পোয়া মাছ। তা বিক্রি করেন ৬০ টাকায়। তিনি জানান, ‘হারাদিন নদীতে খাইট্টা ৬০ টেহা পাইছি। ছয়জনের সংসারে তিন কেজি চাইল লাগে। অন কন, এই টাকা দিয়া কী করমু।’ গুলিয়াখালী জেলে গ্রামের প্রিয়লাল জলদাস বলেন, ‘অনতক মাত্র সাত কেজি চাল পাইছি। সাত কেজি চাল তিন দিন চলছে। পোলা-মাইয়া, বউ-ঝিরে ছামনের আড়াই মাস কী খাওয়ামু, নিজে কী খামু, আমাগো কাম-কাইজ ঠিক না করি সরকার জাল ফেলা বন্ধ করল ক্যান।’ জেলেরা জানান, তাঁরা ২০০৮ সালে সরকারের কাছ থেকে নামমাত্র অর্থ ও খাদ্য (চাল) সহায়তা পেয়েছেন।
বেসকারি উন্নয়ন সংস্থা কোডেকের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়কারী নাসির উদ্দিন বলেন, সংস্থার পক্ষ থেকে সৌহার্দ্য কর্মসূচির আওতায় আটটি গ্রামে মা ও শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। জেলেদের চাল, ডাল ও তেল দেওয়া হয়েছে। তবে এ সহযোগিতা অপ্রতুল।
উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস প্রথম আলোকে জানান, ‘কাজহীন জেলেদের পুনর্বাসনে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। গত দুবছর ধরে এ এলাকার জেলেদের কোনো সহযোগিতা করা হয়নি। তবে গত ফেব্রুয়ারিতে উপজেলা উন্নয়ন সভায় জেলেদের জন্য অর্থ ও খাদ্য (চাল) বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন